স্মৃতির মনিকোঠায়, আামার দেখা :- ১৯৭৫ সালের পর থেকে যখন কিছুটা বুঝতে শিখেছি। তখন আমি প্রইমারী স্কুলের ছাত্র। তখন ঢাকা থেকে খুলনাগামী বিলাসবহুল প্যাডেল স্টিমার যা আমাদের এলাকায় রকেট নামে পরিচিত ছিলো।
তখন সবচেয়ে বড় রকেট স্টিমারের নাম ছিলো “গাজী ” যা সকলের মুখে মুখে গাজী রকেট নামে পরিচিত ছিলো। এছাড়াও পিএস মাসুদ, লেপচা, টার্ন, ও শহীদ বেলায়েত দক্ষিণের মানুষের কাছে খুবই পরিচিত ছিলো। এ জাহাজে চলতে পেরে অনেকে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতেন।
বৃটিশদের নদীপথে চলাচলের আভিজাত্যের প্রতীক ছিলো এ জাহাজগুি। তারা এদেশ ছেড়ে চলে গেলেও আমাদের আভিজাত্যের প্রতীক হিসাবে থেকে যায় এ প্যাডেল স্টিমার বা রকেট গুলি। আশির দশক থেকে এ জাহাজগুলো ঢাকার সদর ঘাট থেকে ছেড়ে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, কাউখালি, হুলারহাট, মাছুয়া, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা হয়ে খুলনায় গিয়ে যাত্রা শেষ করত। রোটেশনে তিনটি জাহাজ চলাচল করত।
আমি আমার জীবনে অনেকবার এ জাহাজে চলাচল করেছি। ফার্স্ট ক্লাস ও সেকেন্ড ক্লাশ কেবিনে চলে নিজকে ধন্য মনে করতাম। ক্রমেই জাহাজ চলাচলের এ রুট সংকুচিত হয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মাছুয়া ঘাটে গিয়ে যাত্রা শেষ হতো। এখন তাও বন্ধ হয়ে যায়।
বুড়িগঙ্গা নদীর রকেট ঘাটে গিয়ে দেখা যায় জাহাজগুলো অলসভাবে নদীর উপর নোংগর করে ভেসে আছে। এখন আর তারা দৈত্যের মতো নদীপথ দাপিয়ে বেড়ায় না। এ প্রজন্ম হয়ত জানবেইনা এ ধরনের জাহাজ আছে বাংলাদেশে। তারা এগুলোকে খুজবে ইতিহাস বইয়ের পাতায়।

