Ττবিশেষ প্রতিবেদন :- পিরোজপুর জেলার রাজনৈতিক অংগনে মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ এর নামটি ছিলো মানুষের মুখে মুখে। তিনি মুলত নেছারাবাদ (স্বরুপকাঠীর) বিএনপির রাজনীতির মুল ফোকাস ছিলেন। স্বরুপকাঠী বিএনপির রাজনীতি নেতৃত্বের কোন্দলে তিন ভাগে বিভক্ত। কিন্তু একটি বৃহৎ অংশই ছিলো অহিদ পন্থী।
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতার অবস্থানে ছিলেন তিনি।জনপ্রিয়তার কারনে তিনি আওয়ামী লীগ জমানায় নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন । রাজনৈতিক ও ব্যাক্তিগত কারণে বিভিন্ন সময় আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রে থাকলেও তার রাজনৈতিক সাংগঠনিক দক্ষতা তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মনিকোঠায় স্থান করে দিয়েছিল
তিনি ছিলেন প্রতিবাদী ও মাঠ কাপানো নেতা। বিএনপি নেতা শাহজাহান মাঝির হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করে ও বিচার চাইতে গিয়ে তৎকালীন বিএনপির প্রভাবশালী এমপি ও হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামালের রোষানলে পড়েছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনেও তার অবদান ছিলো। কিন্তু ০৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন ও সংশ্লিষ্টতার কারনে জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে তাকে দলীয় শাস্তির সম্মুখীনও হতে হয়।
তিনি নেছারাবাদ ( স্বরুপকাঠী) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সাথে ছিলেন এক ডজনেরও বেশি যুগ্ম আহ্বায়ক। কিন্তু সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে মুলত ওয়াহিদুজ্জামান অহিদকে ঘিরেই অহিদ পন্থী তৃণমূল নেতাকর্মীরা আবর্তিত হয়েছে।তার সিদ্ধান্তই ছিলো চুড়ান্ত। স্কুল ম্যানেজিং কমিটি থেকে শুরু করে কে কোথায় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বর নির্বাচন করবেন তার একক সিদ্ধান্তের মালিকও ছিলেন তিনি। তাই অহীদ পন্থীদের মধ্য থেকে তার সমকক্ষ আর কেউ সৃষ্টি হয় নি। তাই তার মৃত্যুর পর অহীদ পন্থী তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ভর করেছে।
যারা ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ এর উপর ভরসা করে অতি সহজেই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান মেম্বার নির্বাচিত হবেন বলে আশা করেছিলেন তারা এখন পরেছেন বেকায়দায়।ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য যারা ছিলেন দৌড়ের সামনে তারাও থেমে গেছেন। যারা ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ এর নাম ব্যাবহার করে এলাকায় দাপট দেখাতো তারাও রয়েছেন আতংকের মধ্যে।
এদিকে অন্য দু গ্রুপ অর্থাৎ সাবেক সভাপতি মোঃ ফখরুল আলম পন্থী ও সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত পন্থীদের দল ভারী হচ্ছে। ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ এর মৃত্যুতে তার পন্থী তৃণমূল নেতা কর্মীরা ঐ দুই দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
এ বিষয়ে একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান এখন তাদের নেতৃত্ব দেয়ার কেউ নেই। যুগ্ম আহ্বায়করা সবাই ঠিকাদারি, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, কাবিখা -টাবিখা নিয়ে তাদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। ( চলমান Coastal News24.Top এর সাথেই থাকুন)


















