একটি বিশ্লেষণ মূলক প্রতিবেদন :- সমৃদ্ধ জনপদ স্বরুপকাঠী। কি নেই এখানে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি, শিল্প, ব্যাবসা বানিজ্য স্বনাম ধন্য ব্যাক্তি সবই আছে। কিন্তু অভাব রয়েছে শুধু সঠিক রাজনৈতিক নেতা ও নেতৃত্বের। পিরোজপুরের নেছারাবাদ ( স্বরুপকাঠী) উপজেলার রাজনীতি সহ সব বিষয়ে এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ভান্ডারিয়া উপজেলা দ্বরা। কারন স্বরুপকাঠীর রাজনৈতিক নেতারা অল্পতেই তুষ্ট। তাদের যত হম্বিতম্বি ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে নেই কোনো অবস্থান। আঞ্চলিক এবং জেলা পর্যায়েও একই অবস্থা।
এখানকার রাজনৈতিক দলের নেতারা অন্য উপজেলার নেতাদের পিছনে দৌড়িয়ে তুষ্ট থাকেন। যার ধারাবাহিকতায় তারা বানারীপাড়া, পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ভান্ডারিয়া উপজেলার নেতাদের পিছনে এখনো দৌড় অব্যাহত রেখেছেন। যেখানে অন্য উপজেলার নেতারা নিজেদেরকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যাস্ত সেখানে স্বরুপকাঠীর কোনো কোনো নেতা ব্যাস্ত সময় পার করছেন হাট বাজার দখল, খেয়াঘাট ইজারা নেয়া, স্কুল কমিটির সভাপতি হওয়া, ইউনিয়ন পরিষদের কাবিখা, কাবিটা, ভিজিডি কার্ড বিতরণ, মৎসজীবিদের চাল বিতরণে। কেউ রয়েছেন টেন্ডারবাজি ও গ্রামের ভেঙে যাওয়া পুল কালভার্ট ও রাস্তা মেরামত করে কিছু নগদ উপার্জনের ধান্দায়।
এসকল কর্ম কান্ডের জন্য তাদের নজর উপরের দিকে নাই। তাদের নজর নগদ ইনকামের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ সুযোগটিই গ্রহন করছেন অন্য উপজেলার নেতারা। যার প্রমান বিগত সংসদ নির্বাচনে ৪ জন প্রার্থীই ভান্ডারিয়া উপজেলা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। সেখানে বিরাট জনগোষ্ঠী ও বিপুল ভোটার অধ্যুষিত এ উপজেলা থেকে কেউ দলীয় মনোনয়ন পাননি এবং সাহস করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীও হননি। এ থেকে সহজেই প্রতীয়মান হচ্ছে স্বরুপকাঠীর নেতৃবৃন্দের দৌরাত্ম কতদূর।
বর্তমান অবস্থায় রাজনীতির দিকে তাকালেও দেখা যায় স্বরুপকাঠী বিএনপির সার্বিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন সাংসদ ও মন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন। জামায়াতের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন শামীম সাইদি এবং বিগত নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জননেতা মাহমুদ হোসেন নিয়ন্ত্রণ করছেন তার কর্মী সমর্থকদের। তারা সকলেই ভান্ডারিয়ার অধিবাসী।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্বরুপকাঠীবাসী কি আগামীতে দীর্ঘকাল ধরে ভান্ডারিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে ?

