প্রত্যক্ষদর্শী :- গতকাল রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ছিনতাইকারীদের এক অভিনব অভিনয় প্রত্যক্ষ করলাম। বেলা আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা কমিউটার ট্রেনটি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে থেমেছে। হঠাৎ চেচামেচি আর গালাগালির শব্দ কানে আসতেই দৃষ্টি গেল ট্রেনের ছাদে।
সামনে এগুলাম দেখতে পেলাম দুই নেশাখোর মিলে এক নেশাখোরকে টেনে নামাচ্ছে নিচে।নিচে নামিয়ে (ছবিতে প্রদর্শিত) মাঝের নেশাখোরটিকে দুই পাশের দুজন কিল-ঘুষি মারছে আর জিজ্ঞেস করছে আর ছিনতাই করবি?
তখন ছাদে একটি ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলো ২২-২৩ বছরের এক যুবক। তাকেও নামতে বলা হলো। যুবকটি নামার পরই আসল ঘটনা জনসমক্ষে আসতে শুরু করল।
ঐ যুবকটি গাড়ীর ভিতরে সিট না পেয়ে ছাদে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া স্টেশন থেকে। ঐ তিন ছিনতাইকারী আগে থেকেই ছাদে অবস্থান করছিল। গেন্ডারিয়া এবং কমলাপুর স্টেশনের মাঝামাঝি আসার পর নেশাখোর ঐ তিনজন ছিনতাইকারীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়। যুবকের ব্যাগে কি আছে তা সার্চ করতে চায়। ব্যাগের মালিক যুবকটি বাঁধা দেয়।
এসময় ছিনতাইকারী চক্রটি একটি ছোট চাকু এবং কেঁচি বের করে। তাতে কিছুটা ভীতু হয়ে ব্যাগ চেক করতে দেয়। ইতিমধ্যে যুবকটির কিছু জিনিস পত্র চক্রটি হাতিয়ে নেয়। কমলাপুর স্টেশনে আসার পর যুবকটি ছিনতাইকারী বলে চিৎকার দিলে লোকজন এগিয়ে আসে। তখন ছবির দুই পাশের দুই ছিনতাইকারী মাঝের ছিনতাইকারীকে মারতে শুরু করে এবং জনগণের মধ্য থেকে তাকে টেনে হিঁচড়ে অন্যদিকে নিয়ে যেতে চায়। তখন এক নারীকে বলতে শোনা যায় ওরা তিনজনই একদলের। ছবির মাঝের ছিনতাইকারী তখন বলতে থাকে ওরা দু’জনও আমার সাথে ছিলো। আমারা উপস্থিত জনগন তখন তিনজনকেই রেলওয়ে থানায় নিয়ে যেতে চাই।
তখনই দৃশ্য পাল্টে যায়। ছবির দুপাশের দুই ছিনতাইকারী দেয় ভো দৌড়। মাঝখানেরটা মার খেয়ে কিছুটা দূর্বল থাকায় তাকে কয়েকজন নেশাখোর মিলে থানায় দেয়। আমিও কৌতুহল বশত থানায় যাই। তখন পুলিশ অফিসারের সামনে ধৃত ছিনতাইকারী বলতে থাকে আমি একা করিনি।তিনজনে মিলে করেছি। ওরা বাঁচার জন্য আমার একার উপর দোষ চাপিয়েছে।পরবর্তীতে কি হয়েছে তা ফলোআপ করা সম্ভব হয়নি।
(রেলের ছাদে ভ্রমন করবেন না। তাহলে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পরে আপনার জীবনও যেতে পারে)

