ফেসবুক পোস্ট পর্যালোচনা :- পিরোজপুরের নেছারাবাদ ( স্বরুপকাঠী) উপজেলা বিএনপি বরাবরই রয়েছে আলোচনা সমালোচনায়। গত ২৩- ২৪ অক্টোবর এ উপজেলার এক সাবেক নেতার বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছিলো সরগরম। ০৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত কর্ম কান্ডের জন্য তাকে বহিষ্কারও করা হয়। কিন্তু তার একের পর এক বেপরোয়া আচরণে নিজ দলের নেতাকর্মীরাই রয়েছে তার উপর বিরক্ত। যার চুড়ান্ত রুপ নিয়েছে গত ২৩ এবং ২৪ অক্টোবরের বিভিন্ন সাজানো ঘটনার মাধ্যমে।
স্বরুপকাঠী বিএনপির এ হযবরল অবস্থার সুযোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত ২৫ অক্টোবর স্বরুপকাঠী কলেজিয়েট একাডেমির পাশের রাস্তায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ বিনা বাধায় একটি ঝটিকা মিছিল করে তাক লাগিয়ে দেয়। যা সর্বত্র আলোরন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে এ মিছিলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নেছারাবাদ থানায় একটি মামলা হয়। পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতেও প্রেরন করেছে।
ঐ মিছিলের পরেই স্বরুপকাঠী বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মন্তব্য থেকে দেখা গেছে স্বরুপকাঠী বিএনপি আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। কারন বিগত সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর ০২ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন স্বরুপকাঠী আওয়ামী লীগের ভোটে। এছাড়াও ০৫ আগস্টের পর বিএনপি অর্থের বিনিময়ে স্বরুপকাঠী আওয়ামী লীগকে পূনর্বাসনের আওতায় এনেছে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকারও তারা হারিয়ে ফেলেছে।
ঝটিকা মিছিলের পর মিছিলে অংশগ্রহন কারীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযানে নামে। ফেসবুক পোস্ট থেকে দেখা গেছে পুলিশ আসামি ধরতে গেলে তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী ছাত্রলীগ কর্মীদের গ্রেফতার না করার জন্য পুলিশকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও ছাত্র লীগের নেতা কর্মীরা বিএনপির ছত্রছায়য় আত্ম গোপনে আছে। কারন হিসাবে উল্লেখ করা হয় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থী হবেন তাদের আওয়ামী লীগের ভোট প্রয়োজন। তাই আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের তারা আশ্রয় দিয়ে রাখছেন।
ফেসবুক পোস্ট পর্যালোচনা করে আরও দেখা গেছে স্বরুপকাঠী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির অনেক নেতা কর্মীর ব্যাবসায়ীক পার্টনার। এ ছাড়াও রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্ক। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এ্যাকশনে যাওয়া স্বরুপকাঠী বিএনপির পক্ষে অসম্ভব।
এছাড়াও ফেসবুক পোস্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে নেতৃত্ব শুন্য স্বরুপকাঠী বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে যার যেমন মন চায় সে অবস্থায়। সাংগঠনিক কোনো চেইন অফ কমান্ড না থাকায় এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থনে এলাকায় গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং ও ছিচকে মাস্তান বাহিনী।
সমাজ ও রাজনীতি সচেতন মহলের ভাষ্য উপজেলা কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সিস্টেমের মধ্যে আনা হলে স্থানীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

