কে.এ.সাদাত:- আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরুপকাঠী) উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে অধিকাংশ ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য পদে হিন্দু কমিউনিটি ও সুশীল সমাজের প্রার্থীরাই হবে মেইন ফ্যাক্টর। সেক্ষেত্রে অনেকেরই হিসাব নিকাশ উল্টে যাবে।
ইতিমধ্যে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টি ইউনিয়নে হিন্দু কমিউনিটির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নির্ধারণ করা প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তারা ফেসবুকে পোস্ট না দিয়ে এবং ঢাকঢোল না পিটিয়ে ভিন্ন কৌশলে হাঁটছে।
এ প্রসংগে এক হিন্দু কমিউনিটির গ্রহনযোগ্য নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা স্বরুপকাঠীর হিন্দু কমিউনিটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছি। আমাদের কমিউনিটির ভোটেই পিরোজপুর ০২ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। সুতরাং আমাদের মনোনীত নির্দলীয় প্রার্থীকে কেউ বাঁধা দেয়ার অধিকার রাখে না। এ ছাড়াও আমাদের কমিউনিটির প্রার্থীকে কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নের ভরসায়ও থাকতে হবে না।
এদিকে অন্য ৪ টি ইউনিয়নে সুশীল সমাজের প্রতিনিধির ব্যানারে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। সেক্ষেত্রে সর্বজনগ্রাহ্য কোনো ব্যক্তিকেই ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী করা হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সচেতন মহলের বক্তব্য যেহেতু আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারবে না। সেহেতু আওয়ামী লীগের ভোট প্রদান করার জন্য একজন নির্ভরযোগ্য, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় প্রার্থী দরকার। তাই নির্ভরযোগ্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধির খোঁজে রয়েছে নির্দলীয় একটি মহল।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বরুপকাঠীর হিন্দু কমিউনিটি এবং আওয়ামী লীগের ভোটাররা জামায়াতে ইসলামী ঠেকানোর জন্য ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। সেটা ছিলো জাতীয় পর্যায়ের বিষয়। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ের হিসাব মিলবে না। স্থানীয় পর্যায়ের হিসাব হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তাছাড়াও স্বরুপকাঠী বিএনপি রয়েছে তিন অংশে বিভক্ত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকলে ধানের শীষের সাথে যুক্ত ছিলো। কিন্তু ইউপি নির্বাচনে যেহেতু দলীয় প্রতীক নাই সেহেতু দল থেকে চাপিয়ে দেয়া প্রার্থীকে মেনে না নিয়ে ভিন্ন পথেও হাটতে পারেন কেউ কেউ। সুতরাং স্বরুপকাঠীর ইউপি নির্বাচন বিএনপির জন্য ততটা সহজ হবে না।

