বিশ্লেষণ মূলক প্রতিবেদন : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি চলছে নেতৃত্বহীন ভাবে। আর এ সুযোগে তৃণমূল নেতাকর্মী পরিচয় দানকারীরা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে।অন্যের জমি দখল, চাঁদাবাজী, মানুষের বাড়িতে গিয়ে হামলা, দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চরের মাটি কেটে বিক্রি, হিন্দু এলাকায় গিয়ে মারধর করা, মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করা ইত্যাদির সাথে এখন নতুন সংযোগ হয়েছে মব কালচার।
গত ২৫ এপ্রিল স্বরুপকাঠীর অলংকারকাঠীতে নাসিম নামে এক কিশোরকে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে আহত করা এবং গায়েবি মামলায় কারাগারে প্রেরন এখন স্বরুপকাঠীতে টক অফ দা টাউনে পরিনত হয়েছে। মামুন ভুইঁয় নামে এক বিএনপি নামধারীর নেতৃত্ব কথিত ছাত্রদল কর্মীরা এ ঘটনা ঘটায়। ঐ ঘটনা বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে উক্ত মামুন ভুইঁয়া নিজের অপরাধ আড়াল করার জন্য একটি প্রহসনমূলক সংবাদ সন্মেলন করে। কিন্তু নেছারাবাদ উপজেলায় কোনো সাংগঠনিক নেতৃত্ব না থাকায় এ বিষয় নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছ না। অনেকে মনে করছেন বিভক্ত নেছারাবাদ বিএনপির একটি অংশ অপরাধ করলে অন্য অংশ প্রতিবাদ না করে বরং তামাশা দেখে। এ কারণেই এখন মব কালচার প্রসার লাভ করতেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংবাদ থেকে দেখা যাচ্ছে কেউ বিএনপির কোনো কাজের সমালোচনা বা সরকারের কাজের সমালোচনা করলেই বিএনপি নামধারীরা তাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপনে হুমকি দিচ্ছে। স্হানীয় কোনো কোনো সাংবাদিকও রয়েছে ভয়ের মধ্যে।তারা দেখেও অনেক সংবাদ প্রকাশ করছে না। গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সমালোচনা হবে বিরোধিতা হবে এটাই নীতি। আর এ নীতিতে যারা বাধা দেবে তারা তো স্বৈরাচারের ভুমিকায় চলে যাবে।
প্রবীন রাজনীতি সচেতনরা মনে করছেন নেছারাবাদ উপজেলায় এবং ইউনিয়ন সমূহে সাংগঠনিক কমিটি গঠন না হলে মব কালচার ছড়িয়ে পড়বে। তারা বলেন এখনো সময় আছে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের অপকর্মের লাগাম টেনে ধরা উচিৎ। নইলে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির নীরব দর্শকের ভুমিকায় থাকা সাবেক নেতৃবৃন্দকে, যারা আগামীতে উপজেলার বড়ো বড়ো পদবীর অধিকারী হতে চাচ্ছেন।


















