বিশেষ প্রতিবেদন :- পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরুপকাঠী) উপজেলা জেলার অন্যতম বিএনপি অধ্যুসিত জনপদ। ২০২৪ এর পটপরিবর্তনের পর এ উপজেলার কতিপয় শীর্ষ নেতার অ-সাংগঠনিক কর্ম কান্ডের জন্য বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দেয়। সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য উপজেলা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। বিলুপ্ত করা হয় নেছারাবাদ উপজেলা কমিটি। নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপি এখন নেতৃত্বশুন্য অবস্থায় আছে।
নেতৃত্বশুন্য থাকলেও সাবেক কতিপয় নেতার চাঁদাবাজি, সালিশ বানিজ্য, সরকারি মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি, টেন্ডার বানিজ্য, মানুষের বাড়িতে হামলা, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজ এবং নিজ পরিবারের লোকজনের অপকর্মের জন্য স্বরপকাঠী বিএনপির প্রতি মানুষের নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্বঘোষিত নেতাদের কোনো পদ না থাকলেও সাবেক লাগিয়ে উপজেলাব্যাপী প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। তারা পিরোজপুর ০২ আসনের সাংসদ এবং প্রতিমন্ত্রীর সামনে পিছনে দৌড়ঝাপ করে তার কাছের লোক পরিচয় দিয়ে এসব অপকর্ম অনায়াসে করে যাচ্ছে।
এসব পদ পদবী ছাড়া নেতারা বিভিন্ন ইউনিয়নে তাদের অপকর্মে সহযোগিতা করার জন্য সিচকে মাস্তান বাহিনী তৈরী করেছে। এসব সিচকে মাস্তানদের মাধ্যমে তাদের অপকর্মের প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন ট্যাগ লাগিয়ে হেনস্থা করে দমিয়ে রাখছে। দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে ধরে এনে নির্যাতন করার জন্য তার বাড়িতে মাস্তান পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে ঐ বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে। ঐ সাংবাদিক এখন উক্ত বিতর্কিত নেতার মাস্তন বাহিনীর ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঐ বিতর্কিত নেতার অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবারই তিনি সংবাদ সন্মেলন করে নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এখন তিনি সংবাদ সন্মেলন নেতা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। মাস্তান বাহিনী দিয়ে দলীয় লোকদের সায়েস্তা করতে গিয়ে এখন নিজের সব অপকর্ম নেট দুনিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অত্যাচারের শিকার লোকজন থানায় জিডি করেছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে স্বঘোষিত ঐ বিএনপি নেতা নিজের বাড়ীতে নিজেই ভাংচুর করেছে বলে নেট দুনিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে।
তার অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচার জন্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিরোজপুর ০২ আসনের সাংসদ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এর নিকট আবেদন জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির বর্তমান অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিএনপি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এতসব অঘটন ঘটলেও পিরোজপুর জেলার শীর্ষ নেতারা নিশ্চুপ রয়েছেন।সাধারণ নেতাকর্মীদের ধারণা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা সবকিছু দেখে শুনে বুঝে যে কোনো স্বার্থে না দেখার ভান ধরেছে।
নেছারাবাদ উপজেলার রাজনৈতিক সচেতন মহলের দাবী পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম খান এবং সদস্য সচিব মোঃ সাইদুল ইসলাম কিসমত স্বরুপকাঠীর বিএনপিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।

