বিশেষ প্রতিবেদন : পিরোজপুরের বৈচিত্র্যময় চরিত্রের রাজনীতির এলাকা ভান্ডারিয়া উপজেলা। কে,কখন, কার দল করে বোঝা মুসকিল। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ভান্ডারিয়ার রাজনীতি ছিলো জাতীয় পার্টি জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কব্জায়।উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পর্যন্ত সবাই ছিলেন জেপি রাজনীতির সাথে জড়িত।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় চিত্র উল্টে যায়। যারা জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সামনে- পিছনে, ডানে-বামে থেকে লুটপাট করে নিজের আখের গুছিয়েছে তারাই জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে পল্টি মেরেছে। তারই ব্যাক্তিগত সহকারী এবং আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন মহারাজের পক্ষে গিয়ে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে সহযোগিতা করে।
দীর্ঘ ১৫ বসর ৬ মাস এলাকার বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা ছিলেন আওয়ামী লীগ এবং জেপির দ্বারা কোনঠাসা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের উপর জাহান্নাম নেমে আসে। মহারাজ – মিরাজ দু ভাই মিলে বিএনপি নিধনে নেমে পড়ে।বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অনেককে জেল হাজতে পাঠানো হয়। বাকীরা হামলার শিকার হয়ে ও মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
কিন্তু ২০২৪ এর পট পরিবর্তনে রাজনৈতিক পরিবেশ আমুল পাল্ট যায়। যারা জেপি ও আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য ছিলেন তারা যে কোনো গ্রীন সিগনাল পেয়ে বিএনপির উপর এসে ঝেকে বসে। ছিটকে পড়তে থাকে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা। বিএনপির উপজেলা নেতৃবৃন্দ, জেলা নেতৃবৃন্দ এবং এখন জাতীয় নেতারাও তাদেরকে ফুল দিয়ে দলে স্বাগত জানাচ্ছেন।
কিন্তু এদের দ্বারাই বিএনপির মাঠে লড়াকু সৈনিকেরা এক সময় নির্যাতিত হয়েছে জেল জুলুমের শিকার হয়েছে। আজ তারাই আবার বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের সামনে থেকে বীরদর্পে গিয়ে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিএনপির রাজনীতির সাথে সামিল হচ্ছেন এলাকার নীতি নির্ধারণ করছে। ফলে হতাশা ভর করেছে ভান্ডারিয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। এসব হতাশার কথা এখন তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করছে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

