অনুসন্ধান পর্ব (০১) : যার দূর্বলতা আছে সে নিজেই ডাক চিতকার দিয়ে তা প্রকাশ করে। তার একটি জলন্ত উদাহরণ অজ্ঞাত ব্যাবসার সাথে জড়িত জনৈক সঞ্জয় মন্ডল। গত ০৭ মে Coastal News 24.Top থেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ! কে এই সঞ্জয় মন্ডল? কি তার পরিচয়? শিরোনামে একটি ক্যাপশন website এ আপলোড করা হয়। কিন্তু Coastal News 24.Top থেকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করার পূর্বেই ” তালাশ বিডি” সহ একই ব্যাক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক নিউজ পেইজ থেকে সঞ্জয় মন্ডলের পক্ষে সাফাই নিউজ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও ঐ নিউজকে সমর্থন জুগিয়ে সঞ্জয়ের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে এক পাাতি নেতা। যা ঐ পেইজ গুলোতে আপলোড করা হয়।
” নেছারাবাদে চাঁদাবাজদের প্রতিহিংসার শিকার ব্যাবসায়ী সঞ্জয় মন্ডল ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে সঞ্জয় মন্ডলকে একাধিক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু তার কি ধরনের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও কোথায় তার অবস্থান তা উল্লেখ নেই। ঐ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় সম্প্রতি কতিপয় চাঁদাবাজ সঞ্জয়ের কাছে চাঁদা দাবী করে আসছিল। চাঁদা দিতে সে অস্বীকৃতি জানালে তারা সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কোনো তথ্য গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যায় নি।তিনি সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে ব্যাবসা করেন তাহলে তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ও ধরন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বাঁধা কোথায় ?
ঐ প্রতিবেদনে পলাশ মন্ডল নামে একজনের সাফাই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। তিনি নাকি সঞ্জয়ের একই এলাকার লোক। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পলাশ মন্ডলের বাড়ি দৈহারী ইউনিয়নের আমতলা গ্রামে। সে ঐ এলাকার স্বপন মন্ডলের ছেলে। সে আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু সে হঠাৎ করে বিএনপি হয়েছে। তাই সে হঠাৎ বিএনপি নামে এলাকায় পরিচিত। পলাশ ঢাকায় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। তাই সঞ্জয় তার অবৈধ ব্যাবসাকে নির্বিঘ্ন করতে পলাশের সাথে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু পলাশ ঢাকার কোন কলেজের ছাত্র সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন লোকের কাছে সে বিভিন্ন কলেজের ছাত্র হিসাবে পরিচয় দেয়। এলাকার জনসাধারণ ও বিএনপি ঘরনার লোকজন সূত্রে জানা গেছে সঞ্জয়ের মতো অবৈধ অর্থ উপার্জনকারীদের নিকট থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নাম করে টাকা এনে তা নিজের পকেটে ঢোকানোই তার পেশায় পরিনত হয়েছে। আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে বিভিন্ন ছবি Coastal News 24.Top এর হাতে আছে। এ নিয়ে পলাশ কাহিনি জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।
তালাশ বিডি তে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী সঞ্জয় মন্ডলের কাছে চাঁদা দাবীর বিষয়ে গুয়ারেখা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী মিজানুর রহমানের নিকট ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। সঞ্জয় কি ব্যাবসা করে তাও আমার জানা নেই।চাঁদাবাজি সংক্রান্ত নিউজ প্রকাশ করে ইউনিয়নের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।এটা কাম্য নয়। সঞ্জয়ের এক প্রতিবেশী সুজন ফকির জানান শুনেছি সঞ্জয় ব্যাবসা করে কোটিপতি হয়েছে। কিন্তু কি ব্যাবসা করে এবং কোথায় তার প্রতিষ্ঠান তা এলাকার কেউই জানে না।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের বিশাল গ্রামে একই পরিবারে একই সাথে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে তিনটি বিল্ডিং তৈরি হওয়া এবং একটি মন্দির তৈরি হওয়ায় এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয় । মাত্র দুবছর পূর্বেও যে সঞ্জয় মন্ডল নারায়ণগঞ্জে রাস্তার পাশে একটি তরকারির দোকান ছিলো এবং তার স্ত্রী গার্মেন্টসে হেলপার হিসাবে চাকরি করত।অল্পদিনে সে শতকোটি টাকা কোথায় পেল? এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাথায় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
সঞ্জয়ের জাতীয় পরিচয় পত্রে দেখা গেছে তার নাম সঞ্চয় মন্ডল কিন্তু ইংরেজিতে লেখা রয়েছে Jonjoy Mondoll. পিতার নাম সত্বেন্দ্রনাথ মন্ডল এবং মায়ের নাম আলো রানী মন্ডল। স্থায়ী টিকানায় গ্রামের নাম বিশাল এর স্থানে বিশাপ লেখা রয়েছে। অস্থায়ী ঠিকানা হিসাবে নারায়ণগঞ্জের, শিয়াচর, কুতুবপুর উল্লেখ রয়েছে।
এলাকাবাসীদের মন্তব্য হলো, সঞ্জয়ের সম্পদ দৃশ্যমান কিন্তু তার পেশা অজ্ঞাত। সঞ্জয়ের এই অজ্ঞাত পেশার অনুসন্ধানে রয়েছে Coastal News 24.Top. বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।


















