অনুসন্ধানী প্রতিবেদন : পিরোজপুরের নেছারাবাদ ( স্বরুপকাঠী) উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক। বরাবর আওয়ামী লীগ ঘেঁষা এ ব্যাক্তির একই অংগে রয়েছে নানারূপ। তার অতীত অনুসন্ধান করে দেখা গেছে তিনি নারায়ণগঞ্জে একটি ডাইং ও প্রিন্টিং কারখানার সত্বাধিকারী থাকা অবস্থায়ই নেছারাবাদ ( স্বরুপকাঠী) উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারপর আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর দিয়ে তার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হওয়ার খায়েস জাগে। যেমনি খায়েশ তেমনি কাজ। চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে মাঠে নেমে পড়েন। কিন্তু বিধি বাম। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ এর নিকট গো হারা হারেন।
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি গিরগিটির মতো তার রুপ পাল্টিয়ে ফেলেন। ঐ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্তে মেনে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেনি।এ মওকা হাতছাড়া করেননি তিনি। নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহিদুল ইসলাম মুহিত দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেন।বিপুল অর্থের বিনিময়ে আব্দুল হক মুহিত বিরোধী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাত করে নেন। এরপর তিনি হাত বাড়ান বিএনপির দিকে। অর্থলোভী বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত করে নেন তিনি। প্রচুর অর্থ ব্যায় করে দুই দলের সমন্বয়ে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পিরোজপুর ০২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন মহারাজ এর নির্বাচনে নেছারাবাদ উপজেলার সমন্বয়কারীর ভুমিকা পালন করেন। তার হাতে থাকে মহারাজের শত শত কোটি নির্বাচনী ব্যায়ের দায়িত্ব। তিনি এ সুযোগটি হাতছাড়া করেন নি। অর্থ লোভী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাংশের হাতে তুলে দেন প্রচুর অর্থ। উদ্দেশ্য এ অর্থের বিনিময়ে গঠিত টিমকে তার পরবর্তী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাজে লাগানো। বাস্তবে ঘটেছেও তাই। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহারাজ এমপি নির্বাচিত হন।কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো পদ পদবিতে আব্দুল হক না থাকায় তাকে আওয়ামী লীগ সমর্থন দেয়নি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসাবে পুনরায় নির্বাচনী মাঠে অবতীর্ণ হন মুহিদুল ইসলাম মুহিত।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যায় করে এবং সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ বিএনপির সমন্বয়ে গঠিত টিম ব্যাবহার করে তিনি পুনরায় নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় আব্দুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে, এলাকার সকল উন্নয়ন কাজে তার মালিকানাধীন ইট ভাটার নিকৃষ্ট ইট ব্যাবহার করতে সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করেন।
দ্বিতীয়বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও কয়েক মাসের মাথায় দেশের পট পরিবর্তনে কিছু দিনের জন্য তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন। কিন্তু জনশ্রুতি আছে এর কিছুদিন পর নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির এক সাবেক শীর্ষ নেতাকে ম্যানেজ করে তিনি এলাকায় ফিরে এসে অবাধ বিচরণ করতে থাকেন। কারণ তিনি জানতেন তার টাকা অনেকের পকেটেই গেছে। সুতরাং তার দিকে চোখ তুলে কেউ তাকাবে না। কিন্তু ছয়মাস পূর্বে যখন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে একের পর এক জনপ্রতিনিধিরা গ্রেফতার হতে থাকে তখন তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
টাকার বিনিময়ে স্বরুপকাঠী বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র নষ্টকারী এ বহুরুপী ব্যাক্তি পুনরায় এলাকায় ফিরে অবস্থান করার জন্য ইতিমধ্যে একাধিক সাবেক উপজেলা বিএনপির নেতাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে বলে সংবাদ শোনা যাচ্ছে। তার এলাকায় ফিরে অবস্থান করার সংবাদে স্হানীয় অরিজিনাল বিএনপির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।


















