বিশেষ প্রতিবেদন : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার প্রখ্যাত মিয়া পরিবার। প্রথিতযশা সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া এ পরিবারেরই সন্তান।তার যোগ্য দুই উত্তরসূরী দৈনিক ইত্তেফাক এবং ডেইলি নিউন্যাশন এর সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘ দিন। এ ছাড়াও মিয়া পরিবারের বড় সন্তান মরহুম ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীন আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ।তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঐ পরিবারের ছোট সন্তান জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ৩৮ বছরের নির্বাচিত সাংসদ এবং প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসাবে ১৮ বছর বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয় পার্টি জেপি’র চেয়ারম্যান। ভান্ডারিয়া মিয়া পরিবারের ঐতিহ্য তিনিই টিকিয়ে রেখেছেন। দীর্ঘ ৪০ বছরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তার হাতছাড়া হয়নি কখনো। কিন্তু ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে নির্বাচনে হেরে যান। এটাই ছিলো তার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম পরাজয়। আর এ পরাজয়ের মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক জীবনের ছন্দ পতন ঘটে। মিয়া পরিবারের নিকট থেকে নেতৃত্ব চলে যায় অন্যের হাতে। ২০২৪ সালের পরাজয়ের পর আর তিনি কখনোই এলাকায় যাননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করেও আর জমা দেননি। প্রবীন এ রাজনীতিবিদ বয়সের ভারেও নুহ্য শারীরিক ভাবেও কিছুটা অসুস্থ। তার কোনো পুত্র সন্তন না থাকায় তার পরিবার থেকে রাজনৈতিক কর্ম কান্ড আপাতত নাই বললেই চলে।
জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর চাচাতো ভাই মাহিবুল হোসেন মাহিম। তিনি জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ভান্ডারিয়া পৌর মেয়র। এলাকাবাসী ধারণা করেছিল জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পরে মিয়া পরিবারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মাহিবুল হোসেন মাহিমের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জেপি মনোনিত প্রার্থী হিসাবে সাইকেল প্রতীকে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন এবং বৈধতা পান। কিন্তু তিনি অজ্ঞাত কারণে নির্বাচনী মাঠে ছিলেন না। নির্বাচন পূর্ব এবং পরবর্তী সময়েও তিনি এলাকায় যাননি। ফলে এলাকার জনসাধারণ তার উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর আরেক চাচাতো ভাই, মিয়া পরিবারের সন্তান মাহমুদ হোসেন। যিনি এলাকায় জননেতা হিসাবে পরিচিত। আওয়ামী শাসনের শেষের দিকে তিনি বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।বিএনপির দুর্দশার সময় যখন সবাই পালিয়ে আত্মরক্ষায় ব্যাস্ত তখন তিনি নির্যাতিত তৃনমুল নেতাকর্মীদের পাশে দাড়ান। কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের আইনী সহায়তা দিয়ে পাশে দাড়ান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পিরোজপুর ০২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন। বিএনপি তাকে মনোনয়ন না দিলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। ফলে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও তিনি তার কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে লড়াই চালিয়ে যান।
মাহমুদ হোসেন নির্বাচনে হেরে গিয়েও এলাকায় তার পক্ষে কাজ করা নেতা কর্মীদের তিনি খোঁজ খবর রাখছেন। তিনি এলাকায় কয়েকটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রোগ্রামে সশরীরে উপস্থিত থেকেছেন। যাহা জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মাহিবুল হোসেন মাহিম করেন নি। সবকিছু মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে ভান্ডারিয়ার মিয়া পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান এখন মাহমুদ হোসেনকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।


















