মন্তব্য কলাম :- বাগেরহাটের খান জাহান আলী ( র:) এর মাজার দীঘির আলোচিত কুমিরটিকে আজ অপসারণ করে সুন্দরবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই কুমিরটি একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচিত সমালোচিত হয়েছিল হয়েছিল কুমির এবং এ কুমিরের সাথে যাদের উপার্জন জড়িত ছিল সকলেই। কুকুরটি পাগলা ছিলো এ বলে তার উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে সকলেই এড়িয়ে যায়।যাই হোক মরন কুকুরের উপর দিয়ে গেছে।
কিন্তু গত পরশু ৭ বছরের এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় সেই কুমিরটি। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। কয়েক ঘন্টা পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় কুমিরটিকে দীঘি থেকে অপসারণ করার। সে মোতাবেক আজকে বনবিভাগের চেষ্টায় কুমিরটিকে ধরে সুন্দর বনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত এ দীঘি থেকে কুমির অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হয়েছে।
কিন্তু আমাদের নজর অন্য দিকে। এ কুমিরকে নিয়ে বিশাল একটি মহল বানিজ্যে লিপ্ত ছিলো। তাদের এখন কি হবে? আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ চোখে দেখে আসছি কুমিরের খাবার কোথায় যায়। একদল মূর্খ লোক তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে কুমিরের জন্য হাস- মুরগী, গরু- ছাগল মানত করে মাজারে নিয়ে আসত। দীঘির সিড়িতে নিয়ে মাজারের খাদেম নামধারীরা কুমিরকে নানা শব্দ করে ডাকাডাকি করত এবং ছোট ছোট মাংসের টুকরো পানিতে ফেলত। কুমির মাংসের টুকরো নিয়ে পানিতে ডুব দিত। ভন্ড খাদেমরা মানতকৃত গরু, ছাগল, হাস, মুরগী নিজেরা নিয়ে যেত। জিজ্ঞেস করলে বলত আপনাদের মানত হয়ে গেছে। এখন এগুলো আমদের দায়িত্ব।
এভাবে প্রতিদিন শত শত পশু পাখি উপার্জন করে দিত কুমির। এ উপার্জনের অর্থ চলে যেত বিভিন্ন মহলে। আজ থেকে চাপের মুখে হয়ত কুমিরটি কিছু দিনের জন্য পানি বদল করতে গেছে। এ সুবাদে কিছু মূর্খ লোকের হাস – মুরগী, গরু-ছাগল আপাতত নতুন জীবন পেয়েছে। কিন্তু কিছু দিনের জন্য কুমির কেন্দ্রীক উপার্জন কারীরা কিছুটা হলেও বেকায়দায় পড়েছে। কিন্তু তারা এটাও জানে। যে কোনো ভাবে খান জহান আলী দীঘির ঐতিহ্য কুমির আবার ফিরে আসবে। আবার জমবে মানত মেলা। কুমির ফিরে আসলে শুরু হবে উপার্জন। তাই তারা এ নিয়ে মোটেও চিন্তত নয়।


















