বিশ্লেষণ : – পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া যেন এখন মাদক কেনাবেচার পাইকারী হাটে পরিনত হয়েছে। গতকাল সন্ধায় ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যে দুজন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে তারা দুজনেরই বাড়ি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলায়। গ্রেফতারকৃত সাগর শিকদারের (৩৮) বাড়ি বামনা সদর ইউনিয়নের মেরাজোয়ারখালী এলাকায় এবং শহিদুল ইসলামের (৪০) বাড়ি বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে।
গতকাল সন্ধা সারে ৭ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ জামিরতলা নামক স্থান থেকে ৯০ পিস ইয়াবাসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য মতে তারা ভান্ডারিয়া থেকে ইয়াবা থেকে নিয়ে তাদের নিজ নিজ এলাকায় সরবরাহ করে। এর পূর্বেও ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর ও কাঠালিয়া এলাকার লোকও ভান্ডারিয়ায় মাদকসহ গ্রেফতার হওয়ার নজির রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অনেক চুনোপুঁটি গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে দেখা যাচ্ছে মূল ব্যাবসায়ীরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে মাদক ব্যাবসা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। ভান্ডারিয়া উপজেলার অজো পাড়াগাঁয়েও এর ডালপালা বিস্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিগত ১৫ বছরের খতিয়ান খুঁজে দেখা গেছে ভান্ডারিয়ার দক্ষিণের তেলিখালী ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী জনপ্রতিনিনিধি পরিবারের প্রত্যক্ষ ছত্র ছায়ায় এ মাদক ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বিগত ০৫ আগস্টের পট পরিবর্তনে স্ব- পরিবারে ঐ জনপ্রতিনিধি ভ্রাতৃদ্বয় পালিয়ে গেলেও তাদের তৈরি করা মাদক সিন্ডিকেট রয়েছে বহাল তবিয়তে। সাধারণ মানুষও রয়েছে তাদের হাতে জিম্মি।
এলাকার জনসাধারণের ভাষ্য মাদকের মূল ডিলারদের নিশ্চিহ্ন করতে না পারলে ভান্ডারিয়া জনপদ মাদক মুক্ত করা সম্ভব নয়।


















